ঢাকা | বঙ্গাব্দ

লোহাগড়ায় জীবিত মানুষকে-মৃত্যু দেখিয়ে বয়স্ক ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ

  • প্রকাশের তারিখ : ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫ ইং | ১০:২৪:৪২ পিএম
  • ২৯২ বার পঠিত
  • শেয়ার করুনঃ
ad728

মনির খান ষ্টাফ রিপোর্টার।

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মল্লিক পুর ইউনিয়নের পার মল্লিকপুর গ্রামের মৃত্যু জব্বার শেখের ছেলে শেখ মোঃ তোফাজ্জল হোসেন তকু (৮০), জন্ম ১০ মার্চ ১৯৪৫ সাল।
ভাতা ভোগী শেখ মোঃ তোফাজ্জল হোসেন তকু তিনি গত ৩১/০৩/২০১৪ সাল থেকে ২৪/০৬/২০২২ সাল পর্যন্ত মোট ৯ বছর ভাতা ভোগ করে আসছেন।
২৪/০৬/২০২২ সাল থেকে ভাতা ভোগী শেখ মোঃ তোফাজ্জল হোসেন তকুর বয়স্ক ভাতা বন্ধ হয়ে যায়।
ভাতা ভোগী শেখ মোঃ তোফাজ্জল হোসেন তকু, কোন উপায়ন্ত না পেরে চলে আসেন লোহাগড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসে! সমাজসেবা অফিস থেকে ভাতা ভোগীর ভোটার আইডি কার্ড কম্পিউটারে যাচাই বাছাই করে দেখেন গত ২ বছর আগে ভাতা ভোগী শেখ তোফাজ্জল হোসেন তকু মারা গেছেন!
সূত্রে জানা গেছে মল্লিক পুর ইউনিয়নের পার মল্লিকপুর গ্রামের মেম্বার মোঃ আল আমিন ঠাকুর তিনি শেখ মোঃ তোফাজ্জল হোসেন তকুকে মৃত্যু দেখিয়ে, মল্লিক পুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মৃত্যু সনদ নিয়ে ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে অন্য একজনকে ভাতা করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। 

পরবর্তীতে মেম্বার আল আমিন ঠাকুর নিজের অপরাধ কে আড়াল করতে- তার পকেট থেকে প্রায় ২ বছর ধরে গোপনে ভাতা ভোগী শেখ তোফাজ্জল হোসেন তকুকে ভাতার টাকা দিয়ে আসছেন। কিন্তু হঠাৎ করে কিছু দিন হলো, মেম্বার আল আমিন ঠাকুর ওই ভাতার টাকাটা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। 
ভাতা ভোগী শেখ মোঃ তোফাজ্জল হোসেন তকু দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলেন, আমার বয়স্ক ভাতা ৮/৯ বছর ধরে খেয়ে আসছি! হঠাৎ আমার ভাতা বন্ধ হয়ে গেলো কেমন করে? আমাকে মৃত্যু দেখিয়ে মেম্বার আল আমিন ঠাকুর অন্য মানুষকে ভাতা কার্ডটা করে দিয়েছে। তোমরা দেখোতো বাবা আমি তো বেঁচে আছি! মেম্বার কি ভাবে আমাকে মেরে ফেললো? আমি গরিব মানুষ, পাঁপড় বিক্রি করে কোন রকম সংসার চালায়। ভাতার টাকাটা পেলে আমার জন্য ভীষণ উপকার হতো। মেম্বার আল আমিন ঠাকুর তো আমাকে মেরে ফেলেছে! তোমরা একটু চেষ্টা করে দেখো আমাকে আবার তাজা বানিয়ে
বয়স্ক ভাতা টা করে দিতে পারো কিনা?

উক্ত বিষয় নিয়ে, মল্লিক পুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান নূরুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি ঘটনাটি স্বীকার করে বলেন,এটা চেয়ারম্যান থাকতে হয়েছে! কিন্তু আল আমিন ঠাকুর তো অপরাধ স্বীকার করে তার পকেট থেকে ওই ভাতার টাকা দিয়ে আসছে বলে জানান।
অভিযুক্ত মেম্বার আল আমিন ঠাকুরের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ শামীম রেজা বলেন, ঘটনাটি আমি জানিনা, এখন শুনেছি,তবে আমি যাচাই করে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।


সবার আগে সকল নিউজ পেতে গুগল নিউজে ফলো করুন।

কমেন্ট বক্স