ঢাকা | বঙ্গাব্দ

লোহাগড়ায় ঝিনুকে মুক্তা চাষে নতুন দিগন্ত: ২ উদ্যোক্তার পুকুরে প্রদর্শনী খামার স্থাপনের সিদ্ধান্ত

  • প্রকাশের তারিখ : জুন ২১, ২০২৬ ইং | ০৫:৫৮:৩৭ পিএম
  • ২৯৯ বার পঠিত
  • শেয়ার করুনঃ
ad728
দেশীয় মাছ-শামুক সংরক্ষণ প্রকল্পের উপজেলা কমিটির সভায় গৃহীত হলো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত*  

মনির খান ষ্টাফ রিপোর্টার।

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণের পাশাপাশি বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে ঝিনুকে মুক্তা চাষের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। মৎস্য অধিদপ্তরের ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত)’ এর আওতায় উপজেলার ২ জন উদ্যোক্তার পুকুরে ঝিনুকে মুক্তা চাষ প্রদর্শনী খামার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা কমিটি।

গত ১ জুন বুধবার সকাল ১টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকল্পের উপজেলা কমিটির সভাপতি জনাব শাম্মী কায়সারের সভাপতিত্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সদস্য সচিব ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের বাস্তবায়িত ও চলমান কার্যক্রম উপস্থাপন করেন।

১৭ জনের আবেদনের মধ্যে ২ জন চূড়ান্ত।  
সভায় জানানো হয়, ঝিনুকে মুক্তা চাষ প্রদর্শনী খামার স্থাপনের লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে পত্র প্রেরণ করা হলে ১৭টি আবেদন জমা পড়ে। মৎস্য অধিদপ্তর, গোপালগঞ্জ প্রণীত নীতিমালার আলোকে আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই শেষে অভিজ্ঞতা, জলাশয়ের উপযোগিতা ও আগ্রহের ভিত্তিতে ২ জন সুফলভোগীকে চূড়ান্ত করা হয়।



নির্বাচিত সুফলভোগীরা হলেন:  
১/জনাব মোঃ খোয়াজ আলী* - পিতা ছবর আলী খন্দকার, গ্রাম আড়িয়ারা, ইউনিয়ন জয়পুর, লোহাগড়া, নড়াইল  
২/জনাব মোঃ হাসিবুল হাসান ,পিতা মোঃ এখলাছুর রহমান, গ্রাম গোপিনাথপুর, লোহাগড়া, নড়াইল

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় যে, উপরোক্ত ২ জন সুফলভোগীর পুকুরেই ঝিনুকে মুক্তা চাষ প্রদর্শনী খামার স্থাপন করা হবে। পরবর্তী কারিগরি সহায়তা, উপকরণ সরবরাহ ও প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয় সদস্য সচিব ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে।

ইউএনও যা বললেন  
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী কায়সার বলেন, "শুধু দেশীয় প্রজাতির মাছ-শামুক সংরক্ষণই নয়, ঝিনুকে মুক্তা চাষের মতো উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। লোহাগড়ার জলাশয়গুলো মুক্তা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। প্রকল্প বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা করবে।"

সভায় উপস্থিত কমিটির সদস্যরা মুক্তা চাষের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। তারা মনে করেন, সফলভাবে প্রদর্শনী খামার পরিচালনা করা গেলে ভবিষ্যতে লোহাগড়ার অনেক মৎস্য চাষীই এই উদ্যোগে আগ্রহী হবেন। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।


প্রকল্পের উদ্দেশ্য  
মৎস্য অধিদপ্তর, গোপালগঞ্জ এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প’ এর মূল লক্ষ্য বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছ ও শামুকের প্রজাতি সংরক্ষণ, কৃত্রিম প্রজনন ও চাষ সম্প্রসারণ। এর পাশাপাশি ঝিনুকে মুক্তা চাষের মতো উচ্চমূল্যের উদ্যোগ প্রদর্শনের মাধ্যমে মৎস্য চাষীদের আয় বৃদ্ধি করাই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।

সভা শেষে উপস্থিত সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন সভাপতি। সভার কার্য বিবরণী স্মারক নং ৩.০২.৬৫২.৫০১.০৯.০৬.২১.২৬/১(১০) মূলে প্রকল্প পরিচালক, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।


সবার আগে সকল নিউজ পেতে গুগল নিউজে ফলো করুন।

কমেন্ট বক্স