ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মানববন্ধনে প্রমাণহীন অভিযোগ, সম্মানহানির প্রতিবাদে ব্যারিস্টার সজীব

  • প্রকাশের তারিখ : জুন ৭, ২০২৬ ইং | ০২:৫২:৩৬ পিএম
  • ৭৯৮ বার পঠিত
  • শেয়ার করুনঃ
অভিযোগ পত্র
অভিযোগ পত্র
ad728
মনির খান ষ্টাফ রিপোর্টার।

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা মৌজার একটি জমিকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ব্যারিস্টার দেদার-ই-এলাহী (সজীব) ও শাহজাহান শেখ কুটির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
প্রতিবাদকারীদের দাবি, গত ২৪ মে লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ গেটসংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে কয়েকজন বক্তা তাদের বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তা দখল, জাল কাগজপত্র তৈরি, প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণ এবং সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে এসব বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তাদের ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট জমি ৯০ নম্বর লক্ষীপাশা মৌজার সাবেক ২৬১ নম্বর দাগভুক্ত সম্পত্তি, যা দীর্ঘ বিচারিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বৈধভাবে অবমুক্ত ও নামজারিকৃত হয়েছে। এ বিষয়ে নিম্ন আদালত, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ ট্রাইব্যুনাল, আপিল আদালত এবং জেলা প্রশাসনের একাধিক রায় ও আদেশ বিদ্যমান রয়েছে। জমির নামে সরকারি খাজনা ও ভূমি উন্নয়ন কর নিয়মিত পরিশোধ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট খতিয়ান, পর্চা, নামজারি ও দাখিলাসহ প্রয়োজনীয় সকল নথিপত্র হালনাগাদ রয়েছে।
তাদের দাবি, জেলা প্রশাসনের অবমুক্তির আদেশের পর সংশ্লিষ্ট জমি আইনগতভাবে নামজারি সম্পন্ন হয় এবং পরবর্তীতে প্রশাসনের উপস্থিতিতে ও সহকারী কমিশনার (ভূমি), লোহাগড়ার নির্দেশনা অনুযায়ী বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। বর্তমানে আরএস ২০২৬ নম্বর দাগে কোনো দেওয়ানি মামলা বা আদালতের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর নেই। বিচারাধীন মামলা থাকলেও তা আরএস ২০২৮ নম্বর দাগের একটি অংশকে কেন্দ্র করে, যার সঙ্গে নির্মিত বাউন্ডারি ওয়ালের কোনো সম্পর্ক নেই বলে তারা দাবি করেন।
এদিকে মানববন্ধনে নিজের নাম জড়ানো প্রসঙ্গে শাহজাহান শেখ কুটি বলেন, “আমার জন্ম ১৯৮১ সালে। অথচ যে কাগজপত্র ও ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলো আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে ব্যারিস্টার সজীবের পিতা মরহুম অ্যাডভোকেট ওমর ফারুকের ব্যক্তিগত মোকদ্দমা সংক্রান্ত বিষয়। ১৯৮৫ বা ১৯৮৬ সালে আমার বয়সই ছিল খুবই কম। সেই সময়ের কোনো ঘটনার সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে অভিযোগ তোলার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”
তিনি বলেন, “ব্যারিস্টার দেদার-ই-এলাহীর সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও পারিবারিক সুসম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্ককে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যেই আমার নাম টেনে আনা হচ্ছে বলে আমি মনে করি। আমার পিতা মরহুম আবু বক্কার শেখ ষাটের দশক থেকে লক্ষীপাশা ইউনিয়নের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই অঞ্চলের বহু প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে আমাদের পরিবারের অবদান জড়িত রয়েছে।”
শাহজাহান শেখ কুটি আরও বলেন, “বর্তমান থানা সদর ও প্রশাসনিক অবকাঠামো নির্মাণের জন্য আমাদের পরিবারের জমি অধিগ্রহণ করা হলেও সেই অধিগ্রহণের অর্থ পর্যন্ত আমরা গ্রহণ করিনি। অথচ আজ আমাদের পরিবারকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আমি সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান জানাচ্ছি এবং বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে ব্যারিস্টার দেদার-ই-এলাহী (সজীব) বলেন, “সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে আদালত, ট্রাইব্যুনাল এবং প্রশাসনের একাধিক সিদ্ধান্ত, রায় ও সরকারি নথি আমাদের পক্ষে রয়েছে। তারপরও কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়া জনসম্মুখে আমাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “যে জমিকে কেন্দ্র করে রাস্তা দখলের অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেটিকে সরকারি বা রেকর্ডভুক্ত রাস্তা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা প্রকৃতপক্ষে সঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট জমি সিএস ও এসএ রেকর্ডে ব্যক্তি মালিকানাধীন ‘ভিটা’ শ্রেণির জমি হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে। পরবর্তীতে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে নড়াইল জেলা প্রশাসন জমিটি অবমুক্ত করে এবং বৈধ মালিকানার ভিত্তিতে নামজারিসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। অথচ বাস্তব তথ্য ও সরকারি নথিপত্র উপেক্ষা করে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে।”
ব্যারিস্টার সজীব বলেন, “যদি কারও কাছে অভিযোগের পক্ষে কোনো বৈধ নথি, আদালতের রায় বা সরকারি সিদ্ধান্ত থাকে, তাহলে তা জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হোক। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া ব্যক্তিগত আক্রমণ, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারণা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বিশ্বাস, জনৈক সুশান্ত বিশ্বাস ব্যক্তিগত স্বার্থে  বিষয়টিকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং একে কেন্দ্র করে সামাজিক অস্থিরতা, দীর্ঘ অশান্তি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। এতে শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, বরং এলাকায় অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা ও বিভক্তির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আমি বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সচেতন মহলের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
প্রতিবাদকারীদের দাবি, মানববন্ধনে বলা হয়েছে যে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কারণে বহু পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। তবে বাস্তবে এলাকায় বিকল্প যাতায়াতের রাস্তা বিদ্যমান রয়েছে এবং প্রশাসন একাধিকবার সরেজমিনে পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ফলে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।
তারা আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট জমির বিষয়ে সিএস, এসএ ও আরএস রেকর্ড, নামজারি খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলা, দেওয়ানি আদালতের রায়, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ ট্রাইব্যুনালের রায়, আপিল আদালতের আদেশ, জেলা প্রশাসকের অবমুক্তির সিদ্ধান্ত এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের নির্দেশনাসহ প্রয়োজনীয় সকল নথিপত্র বিদ্যমান রয়েছে। এসব নথি থাকা সত্ত্বেও মানববন্ধনে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তাদের মতে সত্যের অপলাপ।
প্রতিবাদকারীরা বলেন, একটি বিচারিক ও প্রশাসনিকভাবে নিষ্পত্তিকৃত বিষয়ে আদালত ও প্রশাসনের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য, আদালতের নথি এবং প্রশাসনিক রেকর্ড যাচাই করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।


সবার আগে সকল নিউজ পেতে গুগল নিউজে ফলো করুন।

কমেন্ট বক্স