ঢাকা | বঙ্গাব্দ

লোহাগড়া পৌরসভায়,৪ কর্মকর্তা ছাড়াই চলছে অফিস, পৌর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নাগরিক

  • প্রকাশের তারিখ : মে ১৮, ২০২৬ ইং | ০৬:২৮:২২ পিএম
  • ৫২৩ বার পঠিত
  • শেয়ার করুনঃ
ad728
মনির খান, স্টাফ রিপোর্টার


নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। মেয়র নেই, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা নেই, দুইজন প্রকৌশলীর পদ শূন্য। কাউন্সিলরও নেই। ফলে পৌরসভার কার্যক্রম এখন থমকে পড়েছে ! পৌরবাসী বঞ্চিত হচ্ছেন নাগরিক সুবিধা থেকে।

প্রশাসনিক শূন্যতায় অচলাবস্থা:  
খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল আলম ২০২৫ সালের এপ্রিলে লোহাগড়া থেকে বদলি হয়ে যশোরের মনিরামপুর পৌরসভায় যোগদান করেছেন। বর্তমানে তিনি সপ্তাহে দুই দিন— সোম ও বৃহস্পতিবার— লোহাগড়া পৌরসভায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। 

এক জেলা পাড়ি দিয়ে এসে তিনি মেহমানের মতো দুই দিন কোন রকম দায়িত্ব সামলিয়ে ফিরে যান। বাকি সময় পৌরসভার কার্যক্রম- প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়াই চলে।

পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন লোহাগড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার [ভূমি]। তিনিও অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পৌরসভার কাজ দেখছেন। স্থায়ী প্রশাসক না থাকায় নীতিগত সিদ্ধান্ত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

প্রকৌশল বিভাগও শূন্য  
পৌরসভার উন্নয়ন কাজের মূল দায়িত্বে থাকা দুইজন প্রকৌশলী— একজন সহকারী প্রকৌশলী ও একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী— এর পদ বর্তমানে শূন্য। প্রকৌশলী না থাকায় নতুন প্রকল্পের ডিজাইন, প্রাক্কলন প্রস্তুত, টেন্ডার প্রক্রিয়া ও চলমান কাজের তদারকি বন্ধ রয়েছে।

এর প্রভাবে রাস্তা-ড্রেন নির্মাণ, সংস্কার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি নিষ্কাশনসহ সব ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ থমকে গেছে। 

কাউন্সিলর নেই, জনপ্রতিনিধিত্ব শূন্য  
নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক সমস্যা তুলে ধরার মতো জনপ্রতিনিধিও নেই। ফলে নাগরিকদের অভিযোগ ও চাহিদা সরাসরি প্রশাসনের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।

কর্মকর্তারা বসে আছে, কাজ নেই 
পৌরসভার অন্যান্য অফিস সহকারীরা কাজের অভাবে অলস সময় পার করছেন বলে একাধিক কর্মচারী জানিয়েছেন। টেন্ডার, প্রকল্প বাস্তবায়ন, নাগরিক সনদপত্র, ট্রেড লাইসেন্সসহ নিত্যদিনের সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।

পৌরবাসীর ক্ষোভ  
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার এ অবস্থা চলছে। রাস্তায় জলাবদ্ধতা, ড্রেন অপরিষ্কার, রাস্তার বেহাল দশা— অথচ দেখার কেউ নেই।

মেয়র নেই, ইঞ্জিনিয়ার নেই, কাউন্সিলর নেই। আমরা ট্যাক্স দিই, কিন্তু সুবিধা পাই না। পৌরসভা যেন ধাক্কায় চলছে,” বল্লেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পৌরবাসীর দাবি, দ্রুত স্থায়ী মেয়র, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকৌশলী নিয়োগ দিয়ে পৌরসভার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করা হোক। নতুবা নাগরিক দুর্ভোগ আরও বাড়বে।


সবার আগে সকল নিউজ পেতে গুগল নিউজে ফলো করুন।

কমেন্ট বক্স