প্রকাশের তারিখ : মার্চ ১০, ২০২৫ ইং | ০২:৪৬:৫২ পিএম
২০৭ বার পঠিত
শেয়ার করুনঃ
আওয়ামী লীগের মেয়াদে লাইসেন্স পাওয়া ১ হাজার ৬৫৪টি অস্ত্র এখনো জমা পড়েনি
মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে শুরু হওয়া যৌথ অভিযানে কত সংখ্যক অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার এবং বৈধ অস্ত্র জমা পড়ল, তা গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত জানাতে পারেনি পুলিশ সদর দপ্তর। তবে এ সময় প্রথম আলোর প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগে ৯ হাজার ১৯১টি বৈধ অস্ত্র থানাগুলোতে জমা পড়েছে। বাকি ১ হাজার ৬৫৪টি জমাযোগ্য বৈধ অস্ত্র এখনো জমা দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দিন ও পরদিন (৫ ও ৬ আগস্ট) ১১ ধরনের মোট ৫ হাজার ৮২৯টি অস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬৩টি উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১২টা ছিল সব ধরনের বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়। উদ্ধার তালিকার মধ্যে বিভিন্ন থানা থেকে লুট করা অস্ত্র যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে লাইসেন্স স্থগিত করা বৈধ অস্ত্রও। অস্ত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষে সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসারের সমন্বয়ে যৌথ আভিযানিক দল গঠন করে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।
মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে শুরু হওয়া যৌথ অভিযানে কত সংখ্যক অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার এবং বৈধ অস্ত্র জমা পড়ল, তা গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত জানাতে পারেনি পুলিশ সদর দপ্তর। তবে এ সময় প্রথম আলোর প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগে ৯ হাজার ১৯১টি বৈধ অস্ত্র থানাগুলোতে জমা পড়েছে। বাকি ১ হাজার ৬৫৪টি জমাযোগ্য বৈধ অস্ত্র এখনো জমা দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দিন ও পরদিন (৫ ও ৬ আগস্ট) ১১ ধরনের মোট ৫ হাজার ৮২৯টি অস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬৩টি উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১২টা ছিল সব ধরনের বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়। উদ্ধার তালিকার মধ্যে বিভিন্ন থানা থেকে লুট করা অস্ত্র যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে লাইসেন্স স্থগিত করা বৈধ অস্ত্রও। অস্ত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষে সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসারের সমন্বয়ে যৌথ আভিযানিক দল গঠন করে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।
মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে শুরু হওয়া যৌথ অভিযানে কত সংখ্যক অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার এবং বৈধ অস্ত্র জমা পড়ল, তা গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত জানাতে পারেনি পুলিশ সদর দপ্তর। তবে এ সময় প্রথম আলোর প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগে ৯ হাজার ১৯১টি বৈধ অস্ত্র থানাগুলোতে জমা পড়েছে। বাকি ১ হাজার ৬৫৪টি জমাযোগ্য বৈধ অস্ত্র এখনো জমা দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দিন ও পরদিন (৫ ও ৬ আগস্ট) ১১ ধরনের মোট ৫ হাজার ৮২৯টি অস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬৩টি উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১২টা ছিল সব ধরনের বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়। উদ্ধার তালিকার মধ্যে বিভিন্ন থানা থেকে লুট করা অস্ত্র যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে লাইসেন্স স্থগিত করা বৈধ অস্ত্রও। অস্ত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষে সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসারের সমন্বয়ে যৌথ আভিযানিক দল গঠন করে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।
মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে শুরু হওয়া যৌথ অভিযানে কত সংখ্যক অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার এবং বৈধ অস্ত্র জমা পড়ল, তা গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত জানাতে পারেনি পুলিশ সদর দপ্তর। তবে এ সময় প্রথম আলোর প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগে ৯ হাজার ১৯১টি বৈধ অস্ত্র থানাগুলোতে জমা পড়েছে। বাকি ১ হাজার ৬৫৪টি জমাযোগ্য বৈধ অস্ত্র এখনো জমা দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দিন ও পরদিন (৫ ও ৬ আগস্ট) ১১ ধরনের মোট ৫ হাজার ৮২৯টি অস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬৩টি উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১২টা ছিল সব ধরনের বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়। উদ্ধার তালিকার মধ্যে বিভিন্ন থানা থেকে লুট করা অস্ত্র যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে লাইসেন্স স্থগিত করা বৈধ অস্ত্রও। অস্ত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষে সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসারের সমন্বয়ে যৌথ আভিযানিক দল গঠন করে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।
রংপুরে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করে যাওয়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদীর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে রংপুরের সর্বস্তরের বিপ্লবী ছাত্র জনতার অংশগ্রহণে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে এই বিপ্লবী নেতার রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
পরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পুলিশ লাইনস মোড়, কাচারী বাজার প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ ওসমান হাদী (ডিসির মোড়) চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় পুরো বিক্ষোভ মিছিল জুড়ে ‘আমি কে তুমি কে, হাদী হাদী’, ‘আমরা আছি থাকবো, যুগে যুগে লড়বো’, ‘গোলামি না আজাদী? আজাদী আজাদী’, ‘আওয়ামী লীগের আস্তানা ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’—এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
জানাজা ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ রংপুরের হাজারো বিপ্লবী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষোভ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন— শহীদ ওসমান হাদী ছিলেন নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে আপসহীন কণ্ঠস্বর। কোনো রাজনৈতিক সুবিধা নয়, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে তিনি ছিলেন এক অনমনীয় সংগ্রামী। তাঁর লড়াই অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
বক্তারা আরও বলেন— জুলাই অভ্যুত্থানের পর ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে শহীদ ওসমান হাদীর বলিষ্ঠ কণ্ঠ আমাদের নতুন করে এক মঞ্চে নিয়ে এসেছে। জুলাইয়ের এই বিপ্লবী হাদীর মাথায় পরিকল্পিতভাবে যারা গুলি করেছে তারা শুধু হাদীর মাথায় নয়—জুলাইকেও গুলি করেছে। তাঁর অবদান ভুলে গেলে জাতি অপার ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই এই বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বলতে চাই, শুধু শ্রদ্ধা নয়, শপথ—ওসমান হাদীর আদর্শেই এগিয়ে যাবে মুক্তির নতুন প্রজন্ম।
বক্তারা অবিলম্বে ওসমান হাদীর খুনিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃশ্যমান বিচারের দাবি জানান।
আন্দোলনরত প্রাথমিক শিক্ষকদের শাহবাগ অভিমুখী পদযাত্রায় বাধা দিয়েছে পুলিশ। এতে শিক্ষকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। ৩ দফা দাবিতে আন্দোলন করছিলেন তারা।
শনিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর গণমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষকরা যমুনা অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ শাহবাগে ব্যারিকেড দেয়। তারা সেটা ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
তিনি আরও বলেন, ‘দুই-একজনকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে সকালে সারা দেশ থেকে আসা শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন।
শিক্ষকরা বলেন, ‘মানুষ গড়ার কারিগরদের তৃতীয় শ্রেণিতে রেখে উন্নত জাতি গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। পদোন্নতির যোগ্যতা থাকার পরও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষককে সারা জীবন এক পদে আটকে থাকতে হচ্ছে।
এদিকে দাবি পূরণ না হলে পর্যায়ক্রমে কর্মবিরতিসহ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো— সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ, ১০ ও ১৬ বছর চাকরি পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সংক্রান্ত জটিলতার স্থায়ী সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা প্রদান।
ইতিহাসের গভীর বোধ ছাড়া কোনো সংস্কারক প্রজ্ঞাবান হতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘আইন হলো কোনো জাতির নৈতিক ইতিহাস, যা ন্যায়ের ভাষায় লেখা হয়। আর ইতিহাস হলো—কেন সমাজকে আরও ভালো হতে হবে, তারই অনুসন্ধান।’
শনিবার (৮ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ৭৫ বছরপূর্তি (হীরক জয়ন্তী) ও পুনর্মিলনী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধান বিচারপতি তার প্রয়াত মা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বাংলাদেশের প্রথম নারী জাতীয় অধ্যাপক (যিনি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং পরবর্তীতে একই বিভাগের শিক্ষিকা ছিলেন) অধ্যাপক ড. সুফিয়া আহমেদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, তিনি ছিলেন সেই বিরল প্রজন্মের একজন, যাদের বুদ্ধিবৃত্তিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নৈতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিল। তার জীবন ছিল নারীর একাডেমিক ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার নৈতিক শুদ্ধতার প্রতীক, যা এখনো আমাকে প্রভাবিত করে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক দিনে আপনাদের সামনে দাঁড়ানো মানে স্মৃতি ও নিয়তির এক মহামিলনের অভিজ্ঞতা অর্জন করা। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ৭৫ বছরের যাত্রা কেবল একাডেমিক সাফল্যের ইতিহাস নয়, বরং এটি জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনেরই এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়।’
বিচার বিভাগীয় সংস্কার প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিচার বিভাগ কেবল ঐতিহ্যের স্বস্তিতে টিকে থাকতে পারে না। এটিকে সময়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হতে হয়। আর সময়ের সঙ্গে বিচার বিভাগকে প্রাসঙ্গিক থাকতে হলে তাকে সংস্কার করতে হয়। গত ১৫ মাসে আমরা বিচারব্যবস্থার স্বায়ত্তশাসন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও জনগণের বিচারপ্রাপ্তির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছি এবং সেটি এখনো চলমান আছে।’
তিনি বলেন, ‘সংস্কারের মূল লক্ষ্য প্রশাসনিক নয়, বরং নৈতিক; যাতে প্রতিষ্ঠান ক্ষমতাকে নয়, মানুষকে সেবা দেয়; কর্তৃত্ব বৈধতার সঙ্গে যুক্ত হয় এবং বিচার বিভাগ জনগণের আস্থার নৈতিক অভিভাবকে পরিণত হয়।’
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিচারব্যবস্থার সঙ্গে অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। যার মধ্যে রয়েছে—ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ফিলিস্তিন ও থাইল্যান্ড। এই সংযোগের উদ্দেশ্য হলো—আইনের পাশাপাশি ইতিহাস ও দর্শনের আন্তঃবিষয়ক জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে বিশ্বজনীন মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠা করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের হীরক জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি কেবল একাডেমিক উদযাপন নয়, এটি প্রতিষ্ঠানের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রভাবের পুনঃপ্রতিষ্ঠা। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ বারবার প্রমাণ করেছে—ইতিহাস আমাদের মূল্যায়ন করে অর্জনে নয়, বরং প্রচেষ্টার সততা ও নিষ্ঠার মানদণ্ডে।’
সারা দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উচ্ছ্বাসের জোয়ার বইছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; এ লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টাসহ সরকারসংশ্লিষ্ট সবাই দিনরাত কাজ করছেন।
শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘নির্বাচনী ইশতেহারে প্রযুক্তির ব্যবহার’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন প্রেস সচিব।
তিনি বলেন, দেশজুড়ে এখন নির্বাচনের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা একটি অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য কাজ করছি।
শফিকুল আলম আরও বলেন, মানুষ সুশাসন চায়, কিন্তু এটি একদিনে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন দেশে সংস্কার কার্যক্রমে ১০ থেকে ১৫ বছর সময় লেগেছে। আমাদেরও নির্বাচনের পর সংলাপের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে। নেপালে সংস্কার করতে ৯ বছর লেগেছে।
নারী ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেকে বলেন জুলাই সনদে নারী বা শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব নেই, কিন্তু বাস্তবে সব শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিত্বই সেখানে রয়েছে।
প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে পরবর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ইতোমধ্যেই শ্রমবাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
রেল খাতে বিনিয়োগ প্রসঙ্গে প্রেস সচিব জানান, পাঁচ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে রেল প্রকল্পে। দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোকে আরও আধুনিক করতে এসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রেস সচিব আরও বলেন, শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ জনগণকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালাতে চায়। রাজনৈতিক দলগুলোকে এ বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারকে তার পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য হয়ে পড়ায় রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তাকে পদ থেকে অপসারণ করে বুধবার (০৫ নভেম্বর) আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের তদন্তে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার তার পদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে অযোগ্য হয়ে পড়েছেন বিধায় রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের পুনর্বহালকৃত অনুচ্ছেদ ৯৬-এর দফা-৬ এর বিধান অনুযায়ী ৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে তাকে উক্ত পদ থেকে অপসারণ করেছেন।
২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট বিভাগের ১২ জন বিচারপতির বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি তাদের বেঞ্চ প্রদান থেকে বিরত থাকেন। বিচারপতি খুরশীদ আলম ছিলেন ওই তালিকার একজন। তাকে নিয়ে ১২ জনের মধ্যে মোট ৯ জন বিচারপতির তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলে তদন্ত চলমান রয়েছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের ১৫ অক্টোবর রাতে ‘দলবাজ, দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিস্টের দোসর’ বিচারকদের পদত্যাগের দাবিতে হাইকোর্ট ঘেরাও করতে ফেসবুকে ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম। পরের দিন ১৬ অক্টোবর দুপুরে মিছিল নিয়ে হাইকোর্ট চত্বরে আসেন শিক্ষার্থীরা। তারা হাইকোর্ট বিভাগের ‘দলবাজ ও দুর্নীতিবাজ’ বিচারপতিদের পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকেন। এই কর্মসূচি চলার মধ্যেই বেশ কয়েকজন বিচারপতি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আলোচনার পর ১৬ অক্টোবর বিকেলে ছাত্রদের সামনে এসে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল। বিচারপতি অপসারণের বিষয়ে রেজিস্ট্রার জেনারেল বলেন, বিচারপতিদের নিয়োগকর্তা রাষ্ট্রপতি। তাদের পদত্যাগ বা অপসারণ; সেই উদ্যোগও রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে হয়ে থাকে। এখানে প্রধান বিচারপতির যেটা করণীয় উনি সেটা করেছেন। আপাতত ১২ জন বিচারপতিকে প্রাথমিকভাবে কোনো বেঞ্চ দেওয়া হচ্ছে না।
এই ১২ বিচারপতির মধ্যে গত ৩১ অক্টোবর সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের অনুসন্ধান পরিচালনার প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামান। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে পোস্ট করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্তাধীন বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামান প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে তার স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন গত ৩০ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করে নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করেন।
এছাড়া, বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলাম ও বিচারপতি এসএম মাসুদ হোসেন দোলন হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাননি। অপর দুই বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খান ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস ইতোমধ্যে অবসর গ্রহণ করেছেন। এছাড়া সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর রাষ্ট্রপতি দুজন বিচারপতিকে অপসারণ করেন। এর মধ্যে বিচারপতি খিজির হায়াতকে গত ১৮ মার্চ ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানকে গত ২১ মে অপসারণ করা হয়। সর্বশেষ আজ বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকারকে অপসারণ করা হয়।