বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য ও তুরস্কে সরকারি সফর শুরু করেছেন ইন্দোনেশিয়ার এই প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেছেন, প্রথম ধাপে যুদ্ধ ক্ষতিগ্রস্ত গাজার এক হাজার ফিলিস্তিনিকে আশ্রয় দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে তার দেশ।
প্রাবোও বলেছেন, যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিস্তিনিদের কীভাবে ইন্দোনেশিয়ায় সরিয়ে নেওয়া যায়, সেই বিষয়ে তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফিলিস্তিনি ও অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘আমরা আহত ও যুদ্ধের কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও এতিমদের সরিয়ে নিতে প্রস্তুত। ভুক্তভোগীরা আঘাত থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা এবং গাজার পরিস্থিতি তাদের প্রত্যাবর্তনের জন্য নিরাপদ হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে ইন্দোনেশিয়ায় থাকতে পারবে।
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষে ইন্দোনেশিয়া। গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ভূখণ্ডে ঢুকে নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা ও জিম্মি হিসেবে ২৫১ জনকে ধরে নিয়ে যান হামাসের যোদ্ধারা। হামলার জবাব দিতে এবং জিম্মিদের উদ্ধারে সেদিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। দেড় বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে গাজায় নিহত হয়েছেন ৫০ হাজারেরও বেশি ও আহত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা।
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের সমাধানে ইন্দোনেশিয়া নিজেদের ভূমিকা বাড়াতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রাবোও। তবে তিনি বলেছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ নয়।
সূত্র: রয়টার্স।
ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, কী বলছে ইরান
- নিউজ প্রকাশের তারিখ : নভেম্বর ৮, ২০২৫ ইং | ০৬:২৩:০৪ পিএম
- ৩৬৯ বার পঠিত
- শেয়ার করুনঃ
মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত আইনাত ক্রানজ-নেইগারকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দেশ বলেছে, তেহরানের সঙ্গে মেক্সিকোর সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য এই দাবিগুলোকে তোলা হচ্ছে। এসব বানোয়াট ও মিথ্যা বলে অভিহিত করেছে ইরান। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
ইরানি দূতাবাস বলেছে, এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো ইরান ও মেক্সিকোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক সম্পর্কের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে তৈরি একটি বড় মিথ্যাচার এবং মিডিয়ার বানোয়াট কাহিনি। ইরান এই ভিত্তিহীন অভিযোগগুলো স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।
দেশটি জোর দিয়ে বলেছে, আমরা কখনই আমাদের মেক্সিকান বন্ধুদের ভালো ভাবমূর্তি নষ্ট করব না। মেক্সিকোর স্বার্থের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা আমাদের নিজস্ব স্বার্থের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার মতো হবে। মেক্সিকান আইনের প্রতি শ্রদ্ধা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
অপরদিকে ওয়াশিংটনের দাবি, এটি তেহরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে লাতিন আমেরিকায় সম্প্রসারিত করার সর্বশেষ প্রচেষ্টা।
মার্কিন এক কর্মকর্তা জানান, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অভিজাত শাখা কুদস ফোর্স ২০২৪ সালের শেষের দিকে এই পরিকল্পনা শুরু করে। তবে চলতি বছরের শুরুতেই মার্কিন গোয়েন্দারা তা নস্যাৎ করে দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ষড়যন্ত্রটি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং বর্তমানে কোনো হুমকি নেই।
তিনি বলেন, এটি ইরানের দীর্ঘ ইতিহাসের আরেকটি অধ্যায়— যেখানে তারা বিশ্বজুড়ে কূটনীতিক, সাংবাদিক, ভিন্নমতাবলম্বীসহ যে কোনো বিরোধীর বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এটি প্রতিটি দেশের জন্য উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত, যেখানে ইরানের উপস্থিতি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা কীভাবে ষড়যন্ত্রটি ভেস্তে দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি। জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশন বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
সুদান নিয়ে ভয়ংকর পরিকল্পনা, বলির পাঁঠা সাধারণ মানুষ
- নিউজ প্রকাশের তারিখ : নভেম্বর ৫, ২০২৫ ইং | ০৬:০৩:৪৯ পিএম
- ২৯৩ বার পঠিত
- শেয়ার করুনঃ
সুদান এখন এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে, যা একদিকে মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে, আর অন্যদিকে ক্ষমতার খেলায় জড়িয়ে পড়া কিছু গোষ্ঠীকে স্বার্থ সিদ্ধির সুযোগ করে দিচ্ছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া সংঘাতটি, যা এখনো পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান পায়নি, মূলত জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের নেতৃত্বাধীন সুদানের সেনাবাহিনী এবং জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালো ওরফে হেমেডটির নেতৃত্বাধীন র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস-আরএসএফের মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াই থেকে উদ্ভূত।
এই দুপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইতোমধ্যে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, আর প্রায় ৯০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকার এই দেশটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটের মুখোমুখি। খাদ্য, পানি ও চিকিৎসার অভাবে প্রতিদিন নতুন নতুন শরণার্থী সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী দেশগুলোতে।
এই সংঘাতে মূল লাভবান হচ্ছে সেই সামরিক নেতৃত্ব, যারা ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। আল-বুরহানের সেনাবাহিনী রাজধানী খার্তুমের কিছু অংশে আধিপত্য বজায় রাখলেও, হেমেডটির আরএসএফ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা ও স্বর্ণখনির নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এই নিয়ন্ত্রণ তাদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করছে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দরকষাকষির জন্য বড় হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায়ীরা এই সংঘাত থেকে লাভবান হচ্ছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ তুলেছে। সুদানে রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসরের মতো দেশের অস্ত্র সরবরাহের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অস্ত্র বিক্রেতাদের জন্য এই যুদ্ধ যেন এক রক্তমাখা বাজার খুলে দিয়েছে। যেখানে রক্তের বিনিময়ে তারা অস্ত্রের বাজার খুলে বসেছে। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে সুদান থেকে চোরাই পথে স্বর্ণ আমদানির। আর এ কাজে তাদের সবচেয়ে বড় সহযোগী জেনারেল হামদান দাগালোর নেতৃত্বাধীন আরএসএফ।
চলমান এই সংঘাতে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে সুদানের সাধারণ মানুষ। তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, খাদ্য সংকটে শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগছে, আর হাসপাতালগুলো প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে। যুদ্ধের কারণে কৃষি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটি এখন মারাত্মক খাদ্য সংকটের মধ্যে রয়েছে।
দেশটির অর্থনীতিও কার্যত ভেঙে পড়েছে। মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে গেছে, পণ্য আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় লাখো শিশুর ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে। যুদ্ধের আঘাতে সুদানের অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। রাস্তা-ঘাট, সেতু, স্কুল, হাসপাতাল সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও বাড়ছে প্রতিনিয়ত। ধর্ষণ, হত্যা, লুটপাট—সবকিছুই যেন এখন সুদানের নিত্যদিনের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই যুদ্ধের প্রকৃত পরাজিত সুদানের সাধারণ মানুষ—যাদের জীবন এখন শুধুই বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা নিয়ে অবস্থান জানাল ইরান
- নিউজ প্রকাশের তারিখ : নভেম্বর ৩, ২০২৫ ইং | ০৪:২২:৪৫ পিএম
- ২৫২ বার পঠিত
- শেয়ার করুনঃ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে তেহরানের কোনো তাড়া নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
সোমবার (০৩ নভেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আব্বাস আরাগচি বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক স্বার্থ ও সমতার ভিত্তিতে কথা বলতে চায়, তবে ইরান পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে শর্তগুলো দিয়েছে তা হলো সরাসরি আলোচনা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র মজুতে সীমা আরোপ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি ইরানের সমর্থন বন্ধ করা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশটির আরোপ করা এসব শর্ত অযৌক্তিক ও অন্যায্য। এই কারণেই আলোচনা বর্তমানে ‘অসম্ভব’। তারা যেমন তাড়াহুড়ো করছে না, আমরাও তেমন তাড়াহুড়ো করছি না।
আল জাজিরা জানিয়েছে, জাতিসংঘের পুনর্বহাল করা নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও ইরানের এই অবস্থান এসেছে। আরাগচি বলেন, বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঘুরে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমি মাঝে মাঝে আমার সহকর্মীদের বলি, নেতানিয়াহু যুদ্ধাপরাধী হলেও, তিনি একটি কাজ ভালো করেছেন—তিনি পুরো অঞ্চলকে প্রমাণ করে দিয়েছেন, ইসরায়েলই মূল শত্রু, ইরান নয়, অন্যকোনো দেশও নয়।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদির বক্তব্যের পর তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। বদর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও তার কট্টর ডানপন্থি সরকারকে কঠোর সমালোচনা করেন।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বহুদিন ধরেই জানি, ইসরায়েলই এই অঞ্চলের অস্থিতিশীলতার প্রধান উৎস, ইরান নয়। তিনি যোগ করেন, গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) বছরের পর বছর ধরে ইরানকে বিচ্ছিন্ন হতে দিয়েছে, কিন্তু এখন সেই নীতি বদলানোর সময় এসেছে।
বিশ্বকে ১৫০ বার উড়িয়ে দেওয়ার শক্তি আমাদের আছে : ট্রাম্প
- নিউজ প্রকাশের তারিখ : নভেম্বর ৩, ২০২৫ ইং | ০৪:২১:০৪ পিএম
- ২২৮ বার পঠিত
- শেয়ার করুনঃ
আমেরিকার পারমাণবিক অস্ত্রে এত শক্তি আছে যে ‘বিশ্বকে ১৫০ বার উড়িয়ে দেওয়া’ সম্ভব। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিএবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন।
ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, রাশিয়া ও চীন গোপনে পারমাণবিক পরীক্ষা চালাচ্ছে, যদিও তারা তা প্রকাশ্যে স্বীকার করছে না। তিনি বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত পারমাণবিক অস্ত্র আছে, রাশিয়ারও অনেক আছে, আর চীনও দ্রুত এগোচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে উপস্থাপিকা নোরা ও’ডনেল বলেছেন, বর্তমানে কেবল উত্তর কোরিয়াই পারমাণবিক পরীক্ষা করছে—এখানেই ট্রাম্প পাল্টা মন্তব্য করে বলেন, অন্য দেশগুলোও পরীক্ষা চালাচ্ছে; আমরাই একমাত্র দেশ হিসেবে পরে যাওয়ার মতো হতে চাই না।
ট্রাম্প কয়েকদিন আগে ৩০ বছরেরও বেশি সময় পর পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, অস্ত্র তৈরি করে তা পরীক্ষা না করা বাস্তবসম্মত নয়; পরীক্ষা না করলে জানা যায় না এটা কাজ করে কি না।
ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক ক্ষমতা নিয়েও গর্ব ব্যক্ত করে বলেন, আমাদের কাছে বিশাল পারমাণবিক শক্তি আছে, যা অন্য দেশের তুলনায় সেরা। রাশিয়া দ্বিতীয় স্থানে, চীন এখন পিছিয়ে; তবে পাঁচ বছরের মধ্যে তারা সমান পর্যায়ে পৌঁছতে পারে।
ট্রাম্পের সামরিক হুমকি নিয়ে নাইজেরিয়ার প্রতিক্রিয়া
- নিউজ প্রকাশের তারিখ : নভেম্বর ৩, ২০২৫ ইং | ০৪:০৪:১০ পিএম
- ১৭৯ বার পঠিত
- শেয়ার করুনঃ
নাইজেরিয়ায় খ্রিষ্টানদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ তুলে সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নাইজেরিয়া এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে। খবর আলজাজিরার।
রোববার ট্রাম্প বলেন, ‘ওরা খ্রিষ্টানদের গণহারে হত্যা করছে। এটা হতে দেওয়া হবে না।’
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র নাইজেরিয়ায় সেনা পাঠানো বা বিমান হামলার মতো বিকল্প বিবেচনা করছে।
এর জবাবে নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কিমিয়েবি ইমোমোটিমি এবিয়েনফা বলেন, আমাদের দেশে কোনো খ্রিষ্টান গণহত্যা ঘটছে না। সন্ত্রাসীরা ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ হত্যা করছে—খ্রিষ্টান, মুসলিম, এমনকি ঐতিহ্যবাহী উপাসকরাও নিহত হচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, নাইজেরিয়া সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তা চায়, তবে কোনোভাবেই সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হবে না।
নাইজেরিয়া সরকার স্পষ্ট করে বলেছে, এসব হত্যাকাণ্ড সরকারি অনুমোদনে হচ্ছে না। বরং দায়ী বোকো হারাম, আলকায়দা ও আইএস-সম্পর্কিত জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো, যারা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশজুড়ে হামলা চালাচ্ছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু ট্রাম্পের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, নাইজেরিয়া ধর্মীয় সহনশীলতার দেশ। মুসলিম ও খ্রিষ্টান উভয় সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তিনি সাম্প্রতিক সময়েই এক খ্রিষ্টান জেনারেলকে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।
মানবাধিকার সংগঠন ও বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের খ্রিষ্টান গণহত্যা দাবি তথ্যভিত্তিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা অ্যাকলেডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে নাইজেরিয়ায় ১,৯২৩টি হামলার মধ্যে ধর্মীয় কারণে খ্রিষ্টানদের লক্ষ্য করে হামলার সংখ্যা মাত্র ৫০টি।
বিশ্লেষক বুলামা বুকারতি আলজাজিরাকে বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর প্রচারিত একটি বিপজ্জনক মিথ। নাইজেরিয়ার সংঘাত ধর্মীয় নয়; এটি রাজনৈতিক ক্ষমতা, ভূমি, জাতিগত ও দস্যুতার জটিল সংঘর্ষ।
ওয়াশিংটনভিত্তিক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের আফ্রিকা বিষয়ক গবেষক এবেনেজার ওবাদারে বলেন, নাইজেরিয়াকে দমন নয়, বরং সহায়তা করা উচিত। মার্কিন আগ্রাসন উল্টো পরিস্থিতি খারাপ করবে।