প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি ও হুমকির অভিযোগে ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দা আমবারীন রেজাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সানাউল্লাহর আদালতে এই মামলা হয়।
ফার্স্ট টেলি সেলস কোম্পানির স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বাদী হয়ে আদালতে মামলাগুলো করেন।
আসামিরা হলেন সৈয়দা আমবারীন রেজা, কো-ফাউন্ডার ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেড; জুবায়ের সিদ্দিকী কো-ফাউন্ডার ও ডিরেক্টর; মো. তাবারেজ খান (ভারতীয় নাগরিক) ডিরেক্টর ডেলিভারি (হিরো স্টোর) ; দিলারা ফারুক (হেড অব ক্যাটাগরি); মোহাম্মদ সাজেদুল হক (সিনিয়র ম্যানেজার ও ডিরেক্টর) ডেলিভারি হিরো স্টোর; মোহাম্মদ তৌফিক এক্সিকিউটিভ ক্যাটাগরি ম্যানেজমেন্ট ডিরেক্টর ডেলিভারি হিরো স্টোর বাংলাদেশ লিমিটেড, পান্ডামার্ট।
বাদীর আইনজীবী কাজী মফিজুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। তবে আদেশ দেননি। নথি পর্যালোচনার পরে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।
আইনজীবী আরও জানান, ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টের সঙ্গে ব্যবসা করেন বাদী। পৃথক পৃথক চুক্তি অনুযায়ী এই ব্যবসা করার কথা। কিন্তু চুক্তি ভঙ্গ করে বিভিন্ন জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে পান্ডামার্টের তথা ফুডপান্ডার কর্মকর্তারা বাদীর ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতি করেছেন। এ কারণে এই মামলাগুলো করা হয়েছে।
‘মা তুমি কান্না করো না, বাবা ঘুমোচ্ছে’
- নিউজ প্রকাশের তারিখ : অক্টোবর ২৮, ২০২৫ ইং | ১০:১২:০৩ এএম
- ২১৭ বার পঠিত
- শেয়ার করুনঃ
বাড়ির সামনে থেমে আছে লাশবাহী গাড়ি। যার ভেতর কফিনে ধবধবে সাদা কাফনের কাপড়ে মোড়ানো রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের ট্রাকের খসে পড়া বিয়ারিং প্যাডের আঘাতে নিহত আবুল কালামের মরদেহ। গাড়ির বাইরে থেকে কাচের ভেতর দিয়ে তাকিয়ে তার ছোট্ট দুই সন্তান আব্দুল্লাহ (৫) ও পারিসা (৩)। প্রতিদিনের মতো তার বাবার চোখ মেলার অপেক্ষায়; কিন্তু এই দুই শিশুর সংক্ষিপ্ত জীবনকালের গতকাল সোমবারের সকালটি ছিল অন্যরকম। তাদের মায়ের দুচোখ দিয়ে অঝোরে ঝরছে অশ্রু, আর কানে ক্রমাগত বেজে উঠছে আহাজারি। ছোট্ট দুটি শিশু মাকে সান্ত্বনা দিতে বলতে থাকে, ‘মা তুমি কান্না করো না, বাবা ঘুমোচ্ছে।’
যদিও সন্তান বা স্বজন, কারও সান্ত্বনাই থামাতে পারছিল না নিহত আবুল কালামের স্ত্রী আইরিন আক্তার প্রিয়ার কান্না ও আহাজারি। বুক চাপড়ে মাতম করতে করতে তিনি বলছিলেন, ‘আমার সন্তানরা এখনো বুঝতে পারেনি, তাদের বাবা আর ফিরবে না। ওরা বলে, ‘বাবা ঘুমাচ্ছে মা, তুমি কান্না করো না’, আমি কীভাবে ওদের বোঝাই যে, ওদের বাবা আর কখনো জাগবে না! কালামই ছিল আমাদের একমাত্র ভরসা, এখন আমি ও আমার সন্তানরা কী করব, কোথায় যাব? আমরা একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়েছি।’
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খসে পড়ে প্রাণ হারান আবুল কালাম আজাদ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন তিনি। দুপুর ১২টার আগে আগে ট্র্যাক দিয়ে মেট্রোরেল চলাচলের মুহূর্তে ওপর থেকে হঠাৎই বিয়ারিং প্যাড খুলে মাথায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। আবুল কালাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় একটি ট্র্যাভেল এজেন্সি পরিচালনা করতেন। স্বজনরা জানান, তিনি ব্যবসায়িক কাজে নিয়মিত ফার্মগেট এলাকায় যাতায়াত করতেন। গতকাল সকাল ৯টার দিকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মোক্তারেরচর ইউনিয়নের ঈশ্বরকাঠি গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় পোড়াগাছা মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে নড়িয়া পৌর কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। ছোট্ট দুই শিশুসন্তান রেখে কালাম পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। যদিও তার সন্তানরা এখনো বুঝতে পারছে না তাদের বাবা আর কখনো ফিরবেন না। এ দুর্ঘটনার খবর জানার পর থেকেই বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন কালামের স্ত্রী আইরিন আক্তার পিয়া। যা দেখে অবুঝ দুই শিশুসন্তান মায়ের কান্না থামাতে মাঝেমধ্যেই বলছেন, ‘বাবা ঘুমাচ্ছে মা, তুমি কান্না করো না।’
এর আগে গতকাল ভোরে কালামের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি ঈশ্বরকাঠিতে পৌঁছায়। এ সময় স্বজনদের আর্তনাদে সেখানে শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়। কালামের আকস্মিক এমন মৃত্যুতে শোকাতুর পুরো গ্রামের মানুষ। আবুল কালাম (৩৫) ঈশ্বরকাঠি গ্রামের প্রয়াত জলিল চোকদারের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকতেন নারায়ণগঞ্জের জলকাঠি এলাকায়। শৈশবেই হারিয়েছেন বাবা-মাকে।
চাচাতো ভাই নোমান চোকদার কালবেলাকে বলেন, ‘আবুল কালাম সৎ ও খুবই পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। আমাদের সবার সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখতেন। তাকে এভাবে আকস্মিকভাবে হারানো আমাদের দিশেহারা করে দিয়েছে। ওর স্ত্রী ও সন্তানসহ পরিবারের জন্য সরকার কিছু করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
আবুল কালামের আরেক চাচাতো ভাই আব্দুল গণি চোকদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে আমার ভাই মারা গেল। এখন এর দায় কে নেবে?’
নড়িয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকী দাস বলেন, ‘আবুল কালামের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা তার জানাজা ও দাফনে অংশ নিয়েছি। আমরা সার্বক্ষণিক তার পরিবারের পাশে আছি এবং পরিবারের লোকজন যে কোনো প্রয়োজনে প্রশাসনের সহযোগিতা পাবেন।’
অপমৃত্যুর মামলা: মেট্রোরেলের পিলার থেকে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে পথচারী নিহতের ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। রোববার দিনের বেলা এ দুর্ঘটনার পর ওইদিন রাতে তেজগাঁও থানায় এ মামলা নথিভুক্ত হয় বলে জানিয়েছেন থানাটির ওসি মোবারক হোসেন। মামলার বাদী নিহত আবুল কালামের স্ত্রী আইরিন আক্তার প্রিয়া।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওসি মোবারক হোসেন বলেন, ‘ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসার পর পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনার বিষয়ে আর কোনো অভিযোগ থাকলে তারা দিতে পারবেন। পরে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রথমবারের মতো প্রশান্ত মহাসাগরে মস্কো-বেইজিং যৌথ সাবমেরিন টহল
- নিউজ প্রকাশের তারিখ : অগাস্ট ৩০, ২০২৫ ইং | ১০:২০:১০ এএম
- ২২৮ বার পঠিত
- শেয়ার করুনঃ
রাশিয়া ও চীনের সাবমেরিন প্রথমবারের মতো প্রশান্ত মহাসাগরে যৌথ টহল অভিযান পরিচালনা করেছে। গতকাল শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন। আগস্টের শুরু থেকে ডিজেল ও বৈদ্যুতিক শক্তিতে চালিত সাবমেরিনের এ টহল শুরু হয়। এ বিষয়ে রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ওই টহলের অংশ হিসেবে সাবমেরিন ‘ভলখভ’ রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তক নৌঘাঁটি থেকে দুই হাজার মাইল পাড়ি দেয়। দুই দেশের সাবমেরিন জাপান সাগর ও পূর্ব চীন সাগরে টহল দিয়েছে।
এ টহলের বিষয়টি বেইজিং এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তবে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস রুশ সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে গত বুধবার এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। চীনের সামরিক বিশেষজ্ঞ ঝাং জুনশের বরাত দিয়ে গ্লোবাল টাইমস জানায়, প্রথমবারের মতো চীন-রাশিয়ার যৌথ সাবমেরিন টহলে দুই দেশের একে অপরের প্রতি উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত আস্থার ইঙ্গিত রয়েছে। দুই দেশের সাবমেরিনের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় শুধু কারিগরি দক্ষতা নয়, আরও অনেক ঘনিষ্ঠ আদান-প্রদানের সংযোগ রয়েছে।
গ্লোবাল টাইমসকে ঝাং বলেন, যৌথ মহড়া ও টহলের মাধ্যমে চীন ও রাশিয়ার নৌবাহিনী একযোগে নৌপথের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
কয়েক বছর ধরে চীন-রাশিয়া সামরিক বাহিনীর পারস্পরিক সহযোগিতার মাত্রা বাড়িয়ে যাচ্ছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর কিছুদিন আগে রুশ নেতা পুতিন ও চীনের নেতা শি জিনপিং যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের মধ্যে ‘সহযোগিতার কোনো সীমা নেই’ বলে উল্লেখ করেন।
রুশ রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম তাস জানায়, এসব টহলের লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করা, এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, ওই অঞ্চলের সমুদ্রপথের ওপর নজর রাখা এবং সেখানে স্থাপিত চীন-রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে সুরক্ষিত রাখা।
২০২১ সালে প্রথমবারের মতো চীন ও রাশিয়ার ১০টি যুদ্ধজাহাজ জাপানের মূল ভূখণ্ডের আশপাশে টহল দেয়। এরপর থেকে প্রতি বছরই এ ধরনের যৌথ টহল ও মহড়া করছে দেশ দুটি।
এ ছাড়া ২০২৩ সাল থেকেই আলাস্কার কাছে যৌথ বিমান ও যুদ্ধজাহাজ মহড়ার
আয়োজন দেখা যাচ্ছে। গত বছর মার্কিন-রুশ নৌ-সীমানার কাছে চীনের কোস্টগার্ডের চারটি নৌযান ও রুশ বর্ডার গার্ডের দুটি নৌযান বেরিং সাগরে টহল দেয়।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ২২৯ জনকে প্রবেশে বাধা
- নিউজ প্রকাশের তারিখ : অগাস্ট ১৪, ২০২৫ ইং | ০১:১৫:৫৩ পিএম
- ৩৫০ বার পঠিত
- শেয়ার করুনঃ
মালয়েশিয়ায় ভ্রমণ ভিসায় প্রবেশের প্রয়োজনীয়তা মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশিসহ মোট ২২৯ জন বিদেশি পর্যটককে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (কেএলআইএ) মালয়েশিয়ান বর্ডার কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রোটেকশন এজেন্সির (একেপিএস) এক সমন্বিত অভিযানের পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৩ অগাস্ট) মালয়েশিয়ার টিভি তিগা এ সংবাদ প্রকাশ করে।
কেএলআইএ টার্মিনাল-১ এবং টার্মিনাল ২-এর আন্তর্জাতিক আগমন এবং প্রস্থান হলে সন্দেহজনক আচারণের কারণে ৭৬৪ বিদেশি নাগরিককে স্ক্রিনিং করা হয়। এর মধ্যে ২০৪ জন বাংলাদেশি, ভারতীয় ১৪ জন, শ্রীলঙ্কার ৩ জন, পাকিস্তানের ৩ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৩ জন এবং কম্বোডিয়ান ২ জন।
তাদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশে বৈধ ভ্রমণ ভিসা থাকলেও ভুয়া হোটেল বুকিং, কোনো রিটার্ন টিকিট না থাকা এবং মালয়েশিয়ায় ভ্রমণ ও থাকার জন্য অর্থিক সামর্থ্য ছিল না বলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
পরে তাদের মালয়েশিয়া প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মালয়েশিয়ায় প্রবেশের সুযোগ নিয়ে, তারা অবৈধভাবে কাজ করার জন্য এসেছে। এদিকে অনেকের এক বা দুই বার এয়ারপোর্ট থেকে ফেরত দেওয়ার পরেও পুনরায় প্রবেশের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।
মালয়েশিয়ার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সূক্ষ সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসনের বিভিন্ন বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে।
সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানে গণশুনানি
- নিউজ প্রকাশের তারিখ : অগাস্ট ১৪, ২০২৫ ইং | ১০:২৮:৪৪ এএম
- ২৮০ বার পঠিত
- শেয়ার করুনঃ
নাগরিক জীবনে মানুষের সমস্যা-সংকট অন্তহীন। এর মধ্যেই তাৎক্ষণিকভাবে নিরসন করা সম্ভব—এমন সমস্যা বা সংকটগুলোর সমাধানে গণশুনানির মতো কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এর মধ্য দিয়ে অনেক সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানও মিলছে বলে জানিয়েছেন উপকারভোগীরা।
জানা যায়, আধুনিক জনপ্রশাসনকে আরও গতিশীল-জনমুখী করতে জনগণের সমস্যা, সম্ভাবনা নিয়ে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে গণশুনানির আয়োজন করা হয়। এসব গণশুনানিতে বিশেষ করে, ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতাসহ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত নানা সমস্যা নিয়ে সপ্তাহে যে কোনো দিনে অফিস চলাকালে জনসাধারণ জেলা প্রশাসকের শরণাপন্ন হন। প্রশাসনকে জনবান্ধব প্রশাসনে রূপ দিতে গণশুনানিতে জনসাধারণের অভিযোগ ও বক্তব্য শুনে জেলা প্রশাসক তাদের সমস্যা সমাধানে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সমস্যা সমাধানের নির্দেশনা প্রদান করেন। এ ছাড়া নিয়মিত সপ্তাহের প্রতি বুধবার সম্মেলন কক্ষে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় জেলা প্রশাসন: গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়। বিলুপ্ত হয়ে যায় স্কুল পরিচালনা কমিটিগুলো। এ সময় জেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও প্রতিটি উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় এসব সমস্যা নিরসন করা হয়। সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলার মোট ৪১১টি প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু ও যথা নিয়মে এডহক কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোয় শৃঙ্খলা ফিরে আসে, চলমান থাকে লেখাপড়া। অন্যদিকে ৩০টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যাক্ষ নিয়োগ, কর্মচারী (অফিস সহকারী, সহায়ক, আয়া, নিরাপত্তাকর্মী, প্রহরী) পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিনিধি মনোনয়নের মাধ্যমে নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়ে আসে জেলা প্রশাসন। এ ছাড়া পরিবর্তিত অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষা বোর্ড, বিদ্যালয় ও কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে মাঠপর্যায়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গ্রহণ করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আশপাশে নিরাপত্তা বাহিনীর টহলও জোরদার করা হয়।
নিম্নমানের ড্রিলিং কোম্পানির খেসারত গুনছে বাপেক্স
- নিউজ প্রকাশের তারিখ : অগাস্ট ১২, ২০২৫ ইং | ১১:২৫:৪৩ এএম
- ২৭৬ বার পঠিত
- শেয়ার করুনঃ
দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস অনুসন্ধান সংস্থা বাপেক্স বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক আর্থিক দণ্ডের মুখোমুখি হয়েছে। সম্প্রতি সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টার (এসআইএকিউ) আজারবাইজানভিত্তিক ড্রিলিং কোম্পানি সোকার একিউএস এলএলসির পক্ষে রায় দিয়ে বাপেক্সকে প্রায় ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছে। যদিও সোকারের দাবি ছিল প্রায় ৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সার্বিকভাবে আইনগত ব্যয় নির্বাহ, সেমুতাং সাউথ-১-এর মতো ড্রাই কূপের বিপরীতে খনন ব্যয়, ক্ষতিপূরণ দাবিসহ সব মিলিয়ে বাপেক্সের ১টি কূপের বিপরীতে ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৫৭ মিলিয়ন ডলার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রায় দেশের জ্বালানি খাতে চরম অদক্ষতা, দুর্বল নীতিমালা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্তগ্রহণের প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা, কোম্পানির অভিজ্ঞতা যাচাই ও প্রযুক্তিগত মানের দিকে নজর না দিয়ে শুধু কম মূল্যের ভিত্তিতে দুর্বল চুক্তি ব্যবস্থাপনায় কাজ দেওয়ার মানসিকতার কারণেই আজ এই পরিস্থিতি।
বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, সোকারের বিষযে আমরা আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি বলেন, নিম্নমানের কোনো ড্রিলিং কোম্পানি যাতে কাজ না পায় সেজন্য আমরা যাচাই-বাছাই করি। এখন সবকিছু হচ্ছে দরপত্রের মাধ্যমে। এই কারণে নিম্নমানের কোম্পানির কাজ পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পাশাপাশি এসব দেখভাল করার জন্য মন্ত্রণালয়েরও একটি কমিটি রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সিলেট-১০ নম্বর কূপেও একই ধরনের একটি ব্যর্থতা ঘটেছিল। চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোপ্যাক ১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে কূপ খননের দায়িত্ব নিলেও তারা নির্ধারিত ৩ হাজার ৩০০ মিটার গভীরতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। মাত্র ২ হাজার ৫৭৬ মিটার গভীরে ড্রিল করার পর তথাকথিত উচ্চচাপের কারণে ড্রিল পাইপ আটকে যায়। ফলে বিশাল পরিমাণ গ্যাসের মজুদ থাকা সত্ত্বেও উত্তোলন সম্ভব হয়নি। এতে করে গ্যাস এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ—উভয়ই অপচয়ের শিকার হয়। সেসময় ওই কূপের নির্ধারিত গভীরতায় ড্রিলিংয়ে ব্যর্থ হলেও অজানা কারণে সিনোপ্যাককে সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করতে সিলেট গ্যাস ফিল্ডকে বাধ্য করা হয়, যার ফলে একই স্থানে ও প্যাডে আগের গ্যাস জোনে যাওয়ার জন্য নতুন আরেকটি কূপ ‘১০-এক্স’ খননের দায়িত্ব আরেক চীনা প্রতিষ্ঠান সিসিডিসিকে দেওয়া হয়। সেখানেও রাষ্ট্রের অতিরিক্ত ২০০ কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে। অথচ আগের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে একই ধরনের পরিকল্পনায় অনভিজ্ঞদের বারবার কাজ দেওয়ার ফলে গ্যাস খাতে নতুন বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে।
সাম্প্রতিক তথ্যে জানা গেছে, প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদনের আগে একই সিনোপ্যাককে ভোলায় আরও পাঁচটি কূপ খননের জন্য মনোনীত করা হচ্ছে। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোলার ভূগর্ভস্থ চাপ সিলেটের চেয়েও বেশি, যা অনভিজ্ঞ কোম্পানির জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে একই মানহীন ড্রিলিং টিম ও রিগ দিয়ে কূপ খননের সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক ও আত্মঘাতী। ফলে বিশেষজ্ঞরা দেশের অন্যতম গ্যাস মজুদের ভরসা ভোলায় গ্যাসের রিজার্ভগুলো নষ্ট হবার ঝুঁকির কথা বলছেন।
দেশে শেভরন, হ্যালিবার্টন, স্লামবার্জার, তাল্লো, ইউনিকলের মতো অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক মানের তেল-গ্যাস প্রতিষ্ঠানগুলোর সফল কর্মপরিকল্পনার প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস রয়েছে। তার পরেও জ্বালানি খাতের কিছু অসৎ ব্যক্তির স্বার্থে কম মূল্যের দরদাতা নির্বাচনের মাধ্যমে নিম্নমানের অনভিজ্ঞ কোম্পানিগুলোর হাতে এসব কাজ তুলে দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাস উত্তোলন কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ হাজার ৭৬৭ মিলিয়ন ঘনফুটে, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা ঘোষণা করলেও তহবিল সংকটে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে ৮টি ওয়ার্কওভারসহ মোট ১৮টি কূপ খনন কাজ মাত্র সম্পাদিত হয়েছে। এটি ৬২৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে জাতীয় গ্যাস বিপণন ব্যবস্থায় আশাব্যঞ্জক নয়।
এরই মধ্যে ভোলায় পাইপলাইন স্থাপন বা এলএনজি/সিএনজি বিকল্প ব্যবস্থাপনায় গ্যাস স্থানান্তরের কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই আগের সরকারের ভুল নীতিতে নতুন ৫টি কূপ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকায় ড্রিলিংয়ে ব্যাড ইনভেস্টমেন্ট প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাপেক্স কর্মকর্তাদের মতে, বাপেক্সের জন্য ৫৭৭ কোটি টাকার প্রকল্পের মাধ্যমে আগামীতে ভোলায় ধীরে ধীরে কূপ খনন কার্যক্রম হাতে নেওয়া যেত।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মত, জিটিসিএলের মাধ্যমে ভোলা-বরিশাল-ঢাকা-খুলনা পাইপলাইন স্থাপন ও গ্যাস গ্রিডে সংযোগ দ্রুত নিশ্চিত করা; তারপর ভোলায় প্রস্তাবিত ১৯টি নতুন কূপ পর্যায়ক্রমে খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। ভোলায় এখন ৯টি কূপের উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট থাকলেও সর্বোচ্চ ৭০-৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে শুধু পাইপলাইন না থাকার কারণে। এ অবস্থায় ৯০-১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যবহারের গ্রাহক নিশ্চিত না করে নতুন কূপ খনন হলে বাপেক্সের ওপর আর্থিক ঋণের বোঝা চাপবে। বিশ্লেষকদের মতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জ্বালানি খাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি এখনো পেট্রোবাংলার গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন।