স্মারকলিপিতে জানানো হয়, গত ৪ সেপ্টেম্বর আলমবিদিতর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ী
দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের নির্দেশে বিদ্যালয়ের
শিক্ষার্থী ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায়। এতে
চ্যানেল এস প্রতিনিধি শফিকুজ্জামান সোহেল, চ্যানেল এ ওয়ান প্রতিনিধি রানু
মিয়া, দৈনিক ঘোষণা পত্রিকার প্রতিনিধি আফফান হোসেন আজমীর, দৈনিক লিখনী
সংবাদ প্রতিনিধি আব্দুর রাজ্জাক ও দৈনিক মুক্ত খবর প্রতিনিধি মাসুদুর রহমান
শিমু আহত হন। এসময় তাদের ক্যামেরাসহ বিভিন্ন মালামাল ছিনতাই করা হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মামলা করতে গেলে অফিসার
ইনচার্জ (ওসি) আল এমরান হামলার ভিডিও ও স্থিরচিত্র থাকা সত্ত্বেও মামলা
নিতে গড়িমসি ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বরং পরে তিনি হামলাকারীদের প্রভাবিত
হয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। সাংবাদিক সমাজ অভিযোগ
করেছে, ওসি যোগদানের পর থেকেই তিনি সাংবাদিকদের প্রতি অব্যাহত অসাদাচরণ করে
অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করেছেন।
প্রসঙ্গত, এ ঘটনার প্রতিবাদে গত ৫ সেপ্টেম্বর গঙ্গাচড়া জিরোপয়েন্টে
মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। তারা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে
হামলাকারীদের গ্রেফতার ও পক্ষপাতদুষ্ট ওসিকে প্রত্যাহারের দাবি জানালেও
প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপিতে সাংবাদিকরা তাদের ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন, এর মধ্যে
রয়েছে,গঙ্গাচড়া থানার বর্তমান ওসিকে অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার, সাংবাদিকদের
উপর সকল নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও দায়ীদের
শাস্তি, দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর আইন
বাস্তবায়ন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষায় কঠোর
পদক্ষেপ, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ও সহযোগী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
গ্রহণ,
বিদ্যালয়ের দুর্নীতি ও অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিতকরণ।
গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের আহবায়ক মোঃ আব্দুল আলীম প্রামানিক ও
গঙ্গাচড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলী আরিফ সরকার রিজু ও
স্বাক্ষরিত এ স্মারকলিপি রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি বরাবর প্রদান করা হয়।
চিত্রাবাণী ডেস্ক